
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও কক্সবাজার
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ে রোহিঙ্গাদের উৎপাত ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহত্তর ৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিগত ২ যুগ ধরে সরকারী খাস জমি দখল করে গেড়ে বসবাস করছে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। অনুপ্রবেশকারী নাগরিকদের মধ্যে বাংলা ও মার্মা ভাষার লোক রয়েছে। ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক ভাবে রোহিঙ্গা নাগরিকদের সাথে এতদঞ্চলের জনগোষ্টির মিল থাকায় সহজেই এরা বৃহত্তর ঈদগাঁওর জনসমাজের সাথে মিশে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের বিশেষ করে ঈদগাঁওর ৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-পল্লীর ভাড়া কলোনীতে অবস্থান করছে। এসব নাগরিকদের কোন কর্মসংস্থান না থাকায় তারা সরকারী সংরক্ষিত রিজার্ভ বাগান দখল ও বৃক্ষ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাছাড়া রোহিঙ্গা মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান অজ্ঞতার দরুন জনসংখ্যা বাড়ছে আপেক্ষিক গতিতে। তারা এ দেশে এসে শুধু ডাল-পালা বিস্তার করে ক্ষান্ত থাকেনি, সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড।
সচেতন মহলের মতে, বৃহত্তর ঈদগাঁওর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংসের পথে ধাবিত হওয়ার কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বৃদ্ধি। রোহিঙ্গারা এদেশে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে খুন, লুন্টন, রাহাজানী, সন্ত্রাস, ছিনতাই করে সুযোগ বুঝে নির্বিঘেœ বার্র্মায় চলে যায়। এর প্রভাব বিশেষ করে বর্তমানে কক্সবাজার ও বান্দারবান জেলাকে ছড়িয়ে ভাইরাস আকারে প্রতি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরই অংশ হিসাবে ঈদগাঁও’র বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে বলে স্থানীয়দের সূত্রে প্রকাশ।
স্থানীয়দের মতে সংখ্যাগরিষ্ট বার্মাইয়া পরিবার যে সব এলাকায় রয়েছে তৎমধ্যে ঈদগাঁও উত্তর শিয়াপাড়া, কানিয়ার ছড়া, মধ্যম শিয়াপাড়া, কোনা পাড়া, দরগাহ পাড়া, ভাদীতলা, হাসিনা পাহাড়, মেহের ঘোনা, চাঁন্দের ঘোনা,কালির ছড়া, ভুতিয়া পাড়া, জঙ্গল মাছুয়াখালী, ইসলামাবাদের আউলিয়াবাদ, করাচী পাহাড়া, পূর্ব হাজী পাড়া, গজালিয়া এবং ইসলামপুরের পূর্ব নাপিতখালী, নতুন অফিস, বাঁশকাটা, জওন্নাকাটা, ভিলিজার পাড়া, বামন কাটা, পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী, চৌফলদন্ডী খামার পাড়া, পশ্চিম পাড়া সহ ঈদগাঁও বাজারের আনাচে-কানাচে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে বার্মাইয়া পরিবার অবস্থান করছে। এ অবস্থান রোধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মতামত